শুভ জন্মদিন দিদি

0
0

আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ও সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের আজকের দিনে কলকাতার হাজরা অঞ্চলের এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। বাবা প্রমীলেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে প্রবেশ ছাত্রাবস্থাতেই। রাজনীতির পাশাপাশি লেখা পড়া, গান,আঁকা তেও সমান পারদর্শী। ১৯৭০-এর দশকে অত্যন্ত অল্প বয়সে কংগ্রেস (আই) দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মজীবনের সূচনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি স্থানীয় কংগ্রেস নেত্রী রূপে পরিচিত হন। ১৯৮৯ সালের কংগ্রেস-বিরোধী হাওয়ায় তিনি তার কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন। কিন্তু ১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র থেকে পুনরায় সাংসদ নির্বাচিত হন। তারপর প্রায় ১৮ বছর এই কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। প্রচুর লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। এরপর ১৯৯৭ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস স্থাপন করেন। ১৯৯৯ সালে মমতা বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে সামিল হন। এই জোট সরকার গঠন করলে তিনি রেলমন্ত্রী মনোনীত হন। ২০০০ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার প্রথম রেল বাজেট পেশ করেন। এই বাজেটে তিনি তার নিজের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতি অনেক প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছিলেন। ২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তার দল জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়। তবে সেবার এই জোট বামফ্রন্টকে পরাজিত করতে অসমর্থ হয়েছিল। ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি আবার এনডিএ-তে ফিরে আসেন এবং কয়লা ও খনি মন্ত্রকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত একমাত্র তৃণমূল সাংসদ। তারপর শুরু হয় নন্দীগ্রাম অন্দোলন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে একটি কেমিক্যাল হাব স্থাপন করতে চাইলে তমলুকের সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠের নেতৃত্বাধীন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ এই অঞ্চলে জমি অধিগ্রহণের নোটিশ জারি করেন। তৃণমূল কংগ্রেস এর বিরোধিতা করে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনপ্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হন। উর্বর কৃষিজমিতে শিল্পের বিরোধিতা ও পরিবেশ রক্ষার যে বার্তা নন্দীগ্রামের আন্দোলন প্রদান করে তা ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র দেশে। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত ভাল ফল করে। পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস একাই ১৯টি আসনে জয়লাভ করে। ২০০৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিতীয়বার রেলমন্ত্রী হন। দেশের ৫০টি স্টেশনকে তিনি আন্তর্জাতিক সুযোগসুবিধা সম্পন্ন বিশ্বমানের স্টেশনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেন। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে এই উন্নয়নের কাজ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এরপর ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীরূপে শপথ গ্রহণ করেন। টানা ৯ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে রয়েছেন তিনি। ক্ষমতায় এসে বামলার মানুষের জন্য নানা কাজ করেছেন তিনি। মানুষের সুবিধার্থে নানা প্রকল্প এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কন্যাশ্রী,শিক্ষাশ্রী, সবুজ সাথী,খাদ্যসাথী, গতিধারা, ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান, মিশন নির্মল বাংলা, যুবশ্রী, খেলাশ্রী, সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ,স্বাস্থ্য সাথী সহ একাধিক প্রকল্প রয়েছে। বাংলার মানুষের গর্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ তাঁর শুভ জন্মদিনে ভুমি ২৪*৭ এর পক্ষ থেকে জানাই অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here