দীর্ঘ ৭ বছরের প্রতিক্ষা শেষ, ফাঁসিতে ঝোলানো হল নির্ভয়া গণধর্ষণ কান্ডের চার আসামীকে

কলকাতা ক্রাইম দেশ রাজনীতি রাজ্য

দীর্ঘ ৭ বছরের প্রতিক্ষা শেষে ফাঁসিতে ঝোলানো হল নির্ভয়া গণধর্ষণকান্ডের চার আসামীকে। সাত বছর ধরে চলা আইনী জটের জটিল গ্যাড়াকল পেরিয়ে আজ অর্থাৎ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় তিহার জেলে ফাঁসি দেওয়া হল নির্ভয়া কান্ডের চার অপরাধীর। এই প্রথম দিল্লির তিহার জেলে একটি নির্দিষ্ট মামলায় চার অপরাধীর ফাঁসি হল।

বলাই বাহুল্য, ভারতের ইতিহাসেও এই ঘটনা নজিরবিহীন। অমানবিক ও পাশবিকতার সাথে গণধর্ষণ করে খুন করার অপরাধে মৃত্যুদন্ডের সাজা কার্যকর করা হল আসামী অক্ষয় ঠাকুর (৩১), পবন গুপ্তা (২৫), বিনয় শর্মা (২৬) ও মুকেশ সিংয়ের (৩২) বিরুদ্ধে। এত বছর ধরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরে স্বস্তি পেল এতো বছর ধরে আদালতে চক্কর কাটা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত নির্ভয়ার গোটা পরিবার।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর রাতে দিল্লির ২৩ বছর বয়সী এক প্যারা মেডিকেল ছাত্রীকে নির্মমভাবে গণধর্ষণ করে রাজ পথে ছুঁড়ে ফেলে দেয় মোট ছয় দুষ্কৃতী। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনের মধ্যে একজন নাবালক বলে সংশোধনাগারে থেকে তিন বছর পর ছাড়া পেয়ে যায়। আরেক জন প্রধান অভিযুক্ত রাম সিং নিজেই জেলের মধ্যেই আত্মহত্যা করে।

বাকি ছিল এই চারজন আসামী, যাদেরকে আজ ভোরে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর নির্ভয়ার মা আশা দেবী বললেন, “আজ আমি নির্ভয়ার মা হিসাবে গর্বিত”। আজ আবার দেশের আইন ব্যবস্থার উপরে আস্থা তৈরি হলো। উল্লেখ্য যে, আজ ভোর ৩টেয় নাগাদ মানে ফাঁসির দুই ঘন্টা আগেও অপরাধীদের হয়ে আইনজীবী এ.পি সিং এর করা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাঁর করুণার আবেদন প্রত্যাখ্যান এবং ফাঁসির স্থগিতাদেশ চেয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত পবন গুপ্তের আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট।

গতকালকেও আইনজীবী এ.পি সিং আদালতে পবনের স্কুল সার্টিফিকেট, স্কুল রেজিস্ট্রার, এবং পাবনের উপস্থিতি রেজিষ্টারে দাবি করেন যে তিনি অপরাধের সময় নাবালক ছিলেন। আর এই বিষয় বিচারপতি ভূষণ বলেছেন যে, এই নথিগুলি তিনি ইতিমধ্যে আদালতের সামনে দায়ের করেছিলেন। এবং তাও খারিজ করা হয়েছে। তার পরিবর্তে এ.পি সিং বললেন যে, সুপ্রিম কোর্ট যে আবেদনটি পর্যবেক্ষণ করেছে আমরা তাতে সন্তুষ্ট না।

কিন্তু বিচারপতি ভূষণ জিজ্ঞাসা করেছেন এমন কোন কারণগুলি আছে যার ভিত্তিতে এপি সিং (দোষীদের আইনজীবী) করুণার আবেদনের প্রত্যাখ্যানকে চ্যালেঞ্জ করছেন? বিচারপতি ভূষণ আরও বলেছেন যে, এ.পি সিং এমন সব ক্ষেত্র উত্থাপন করছেন যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তর্ক করা হয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরেও রীতিমতো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আইনজীবী এ.পি সিং বলেছেন, আমি জানি তাদের ফাঁসি দেওয়া হবেই, তবে এই ফাঁসি দুই-তিন দিন স্থগিত করা যেতেই পারে (দোষী সাব্যস্ত হওয়া পাবনের) বলে তাঁর বক্তব্য।

কিন্তু অবশেষে সকাল সাড়ে তিনটায় নির্ভয়ার জন্য ন্যায়বিচার স্থাপিত হল ভারতের ইতিহাসে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই স্থগিতাদেশে বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বিলম্বের জন্য ধর্ষণকারী দোষীদের আবেদন খারিজ করে দিল। নয়াদিল্লির তিহার কারাগারে আজ সকাল সাড়ে ৫ টায় নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসি দেওয়া হল ফাঁসুড়ে পবন জল্লাদ। তাঁর সাথে সহযোগী হিসেবে ছিলেন কর্তব্যরত ৪জন জেলার ও ডাক্তার। আর অবশেষে এই দিনটি কার্যকরী হতে প্রায় ৭টি বছর সময় নিয়েছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *