“চা-কি আমরা খাবনা?” পর এবার ” চা কি আপনারা খাবেননা?” অভিনব বার্তা চা বিক্রেতার

জেলা রাজ্য

মনে পড়ে ছোটবেলায় এমনই গ্রীষ্মের দাবদাহের মধ্যেও নির্জন দুপুরগুলিতে ডাক দিয়ে যাওয়া আইসক্রিম, আচার , কাসুন্দিওয়ালাদের কথা? বড়োবেলায় লকডাউনের দিনে তেমন ডাক না মিললেও নদীয়াবাসীরা গৃহবন্দী হয়েও শুনছেন “চা কি আপনারা খাবেন না? চায়ের দোকানে গুলতানি নয়, বাড়িতে বসেই চা পান করুন। পারস্পরিক দূরত্ব বজাও রাখুন, হাত-পা স্যানিটাইজ করুন মাঝেমধ্যেই।” নদিয়ার এই ভ্রাম্যমান চা বিক্রেতা তাঁর বিক্রয়দ্রব্যের সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন একদম ফ্রীতে, মুখে মাস্ক না থাকলে মিলবেই না চা। বাবা মা অনেক আগেই মারা যাওয়ায় কেবল দুই দাদা, বৌদি ও ভাইঝিকে নিয়েই সংসার। নদীয়ার ফুলিয়ার নতুন বুইচার শিল্টু সরকার পেশায় আদতে রাজমিস্ত্রি। কিন্তু বর্তমানে লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসারের প্রয়োজনে অর্থটানে পেশা পরিবর্তন করে তিনি চা সঙ্গে করে বেড়িয়ে পড়েছেন। তবে ভুলে যাননি লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য, তাই সচেতন বার্তাগুলিকে নিলেন চা এর সাথে “টা” হিসেবে। সকাল থেকে সন্ধ্যে অবধি দীর্ঘ ৩০-৪০ কিলোমিটার কেবল সাইকেল চালিয়ে চা বিক্রয় করে বেড়ান। তাঁর বাহনটিরও কেবলমাত্র হ্যান্ডেল ছাড়া বাকি সমস্ত দেহই বিভিন্ন রকম সচেতনতার বার্তার পোস্টারে ঢাকা। তাঁর বক্তব্য “চায়ের নেশা বড়ো অদ্ভুত, প্রশাসনিক সাজা উপেক্ষা করেও বাড়ির বাইরে বেরোনোর প্রবণতা অনেকেরই। কিন্তু যদি হোম সার্ভিস দেওয়া যায় তবে চায়ের দোকানের আড্ডার ঠেকের ভীড়টা খানিকটা হলেও কমানো যেতে পারে। তার সাথে ১০০ বার সচেতনতার বার্তা পৌঁছলে একবার হলেও ভাববেন আমার কথা।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *