করোনা থেকে নিষ্কৃতি পেয়েও নিষ্কৃতি নেই সমাজের কুশিক্ষা থেকে

জেলা রাজ্য

করোনা থেকে মুক্তি পেয়েও বাড়িতে ঢুকতে পারলেন না কলকাতা পুরসভার কর্মী। তাই নিজের বাড়িতে ঢুকতে না পেরে রেল স্টেশনেই ঠাঁই হলো হাওড়ার এক বাসিন্দার। তিনি কলকাতা পুরসভার তোপসিয়া পাম্পিং স্টেশনে পাম্প চালানোর কাজ করতেন। গত ২রা মে তার জ্বর হয়। তারপরে কলকাতার এম আর বাঙুর হাসপাতালে পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ১৩ মে তারিখ নেগেটিভ রিপোর্ট আসায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বন্ধুর বাড়িতে ঢুকতে গেলে প্রতিবেশীরা আপত্তি করে। পরে মানিকপুর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীরা ওই বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ। পুলিশকে তিনি হাসপাতালের দেওয়া ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে কোভিড নেগেটিভ এর কথা বললেও পুলিশ কোন কথা শুনতে চাইনি বলে তিনি জানান। পরে তিনি সাঁকরাইল এর হাওয়াপোতা হাজি এসটি মল্লিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান। সেখানেও তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়। সারারাত তাঁর হাসপাতালের বাইরে কাটে। মশার কামড়ে ঘুম না হওয়ায় অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। বাড়িতে ঢুকতে না পেরে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। কিন্তু থানাতেও তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে দুই প্যাকেট বিস্কুট, একটি পাউরুটি ও জলের বোতল কিনে দিয়ে তাকে সাঁকরাইল স্টেশনে রাত কাটাতে বলে পুলিশ চলে যায় বলে অভিযোগ। এরপর নলপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিশ্বনাথ মাকাল ওই ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। তাঁর প্রতি অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে ওঠা সব অভিযোগ মানিকপুর ফাঁড়ির পুলিশ তা অস্বীকার করেন। পুলিশ জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন যাতে ওই ব্যক্তিকে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। উনি বলেন, “সাঁকরাইল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে অন্ধকারের মধ্যে বসে আছি, মশা কামড়াচ্ছে। এখানে বিদ্যুৎ নেই, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি যেখানে হোক একটু বিশ্রাম চাই, সুস্থ শরীরে বাঁচতে চাই। আমার সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। দোকান বন্ধ থাকায় কিছুই খেতে পাচ্ছি না। আমার সঙ্গে কেন এই অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে? আমার প্রতি মানবিক হয়ে আমাকে যে কোন জায়গায় একটু ঠাঁই দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।” এমনটাই আবেদন জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *