করোনার আবহে ক্যান্সারের চিকিৎসা পাচ্ছে না দুʼবছরের প্রিয়াংশী

জেলা রাজ্য স্বাস্থ্য

কোভিড ১৯ ছাড়াও অনেক মারণ ব্যাধি রয়েছে অথচ ক্রান্তিকালে চিকিৎসা জুটছে না অনেকেরই। বিত্তহীনদের জটিল রোগে চিকিৎসা জোটা প্রায় কল্পকথা। ভ্যানচালক পিতার দুʼবছরের ক্যান্সার রোগগ্রস্থ কন্যা প্রিয়াংশী সাহার কাহিনী এই প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। বাবা মা তাঁদের মুমূর্ষু কন্যাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটে চলেছেন জিয়নকাঠির ছোঁয়া পেতে। বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে দুʼবছরের কন্যার চিকিৎসা জুটছে না কোথাও। উত্তর চব্বিশ পরগনার বামনগাছির বিশ্বজিৎ সাহা ও তাঁর স্ত্রী চোখের জলকে সম্বল করে তাকিয়ে রয়েছেন অবিশ্বাস্য ভাবে কোনো জাদুকর যদি তাঁর ক্যান্সারে আক্রান্ত কন্যার চিকিৎসার সুরাহা করে দেয়। করোনা আক্রান্ত দের অনেকেই চিকিৎসা হয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরছেন। কিন্তু অন্য অনেক কঠিন ও দুরারোগ্য চিকিৎসার জন্য অনেকেই হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে বিনা চিকিৎসায় কার্যত অসহায় ভাবে ভাগ্যের হাতে নিজেদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন। চরম মুহূর্তের অপেক্ষায় দিন গোণা ছাড়া অনেকেরই আজ করণীয় কিছু নেই। ক্যান্সার রোগী দুʼবছরের ফুলের মত প্রিয়াংশীর জোটেনি চিকিৎসা, জুটেছে কেবল উপেক্ষা। অভিযোগ তাকে চিকিৎসার জন্য একে একে আর জি কর, মেডিক্যাল কলেজ, বারাসাত হাসপাতাল ও বারাসাত ক্যান্সার রিসার্চ হাসপাতাল কার্যত মুখ ফিরিয়েছে। কেমো প্রচন্ড প্রয়োজন প্রিয়াংশীর বাঁচার জন্য জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অতঃপর এসময় তাঁরা নিরুপায়। দিনের পর দিন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পিংপং বলের মত ছোড়াছুড়ি হতে থাকা চিকিৎসাহীন কন্যাকে বামনগাছির বাড়িতেই ফিরিয়ে এনেছেন মুমূর্ষু প্রিয়াংশীর বাবা মা। অপেক্ষা অন্তহীন অপেক্ষা তাঁদের। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে টিউমার অপারেশনের পরেই ম্যালিগন্যান্সি ধরা পড়ে প্রিয়াংশীর। একটি কেমো নিলেও তারপরে ক্রমশ অসুস্থ হতে থাকা প্রিয়াংশীর এখন চিকিৎসা জুটছে না। লক ডাউনের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা না করে হাসপাতাল থেকে তাঁদের নার্সিংহোমে যেতে বলা হয়েছে তাঁদের। সে চেষ্টাতেও কসুর না রাখলেও নার্সিং হোম তাঁদের জানিয়েছে প্রিয়াংশীর পরিষেবা দেওয়া তাঁদের দুঃসাধ্য। পরিশেষে বাড়ি ফিরে এসে নিয়তির হাতে নিজেদেরকে সমর্পন করেছেন অসহায় পরিবার।।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *